Bangladesh University Dhaka · Est. 2001
Spring 2027 admission is open. Merit waivers up to 100% on tuition. Apply →
← All news

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত।

জুলাই বিপ্লবে শহীদদের আত্মত্যাগ, সাহস এবং গণমানুষের আকাঙ্ক্ষাকে স্মরণ করে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে আলোচনা সভা, প্রমান্য চিত্র প্রদর্শন, কবিতা আবৃত্তি ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং বিপ্লবে আহত ব্যক্তিদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করা হয়।

আজ সোমবার (১০ আগস্ট) বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ব্রি. জে. মোঃ মাহবুবুল হক (অব.)। অনুষ্ঠানে ব্যবসায় প্রশাসন ও অর্থনীতি বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ তাজুল ইসলাম, কলা, সমাজবিজ্ঞান ও আইন বিভাগের ডিন অধ্যাপক মোঃ হুমায়ুন কবির, ফার্মেসী বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানে গণ-অভ্যুত্থানের ওপর দুটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁদের সাহস ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে মানুষের ন্যায়বিচার, সমতা, গণতন্ত্র এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে।

তিনি বলেন, শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানাতে হলে শিক্ষার্থীদের সততা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের আদর্শ ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে একটি দায়িত্বশীল, জ্ঞানভিত্তিক ও ন্যায়সংগত সমাজ গঠনে তরুণ প্রজন্মকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিইউ রেজিস্ট্রার ব্রি. জে. মোঃ মাহবুবুল হক বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা যে সাহস, ঐক্য ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। আন্দোলনে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের অবদান কখনো ভুলে যাওয়া যাবে না।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আমাদের জাতীয় ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। এটি অন্যায়, অত্যাচার ও স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান।’

আলোচনা সভায় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ২৪ জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ইমাম হাসান জুয়েল (আইন বিভাগ), কাউছার আহমেদ রিফাত (সমাজবিজ্ঞান বিভাগ), আব্দুল্লাহ আল নোমান (আইন বিভাগ), জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদ সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ শ্রেবন্তী (ইংরেজী বিভাগ), আসাদুজ্জামান আসাদ (আইন বিভাগ), ইমাম মেহেদী হাসান (আইন বিভাগ), শাহিন আহম্মেদ (আইন বিভাগ), ফারদিন আহম্মেদ (অর্থনীতি বিভাগ), সাজেদুর রহমান সৌমিক (আইন বিভাগ), মেহেরান বুখারী (আইন বিভাগ) ও আইন বিভাগের প্রভাষক মোঃ রাজিউল আলিম বক্তব্য দেন।

তারা আন্দোলনের সময়কার অভিজ্ঞতা, প্রতিকূল পরিস্থিতি, সহযোদ্ধাদের সাহস এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, জুলাই বিপ্লব শুধু একটি আন্দোলন নয়; এটি বৈষম্য, অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে গণমানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

তারা শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আহত ব্যক্তিদের সুচিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানান।

অনুষ্ঠানের শেষে জুলাই গন অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্নার মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

Originally published on bu.edu.bd.

Design concept

Bangladesh University, redesigned

An independent design, not the official website. Content is from bu.edu.bd.

Design & development by Tamim Iqbal